• ২১শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সরকার নির্ধারিত দামও মানছেন না খেজুর ব্যবসায়ীরা

ডেস্ক
প্রকাশিত মার্চ ১৪, ২০২৪, ১৬:৫৪ অপরাহ্ণ
সরকার নির্ধারিত দামও মানছেন না খেজুর ব্যবসায়ীরা
সংবাদটি শেয়ার করুন....

চলতি বছর খেজুরের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার পবিত্র রমজান মাসে সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে দুই ধরনের খেজুরের দাম বেঁধে দিয়েছে সরকার। কিন্তু রমজানের তৃতীয় দিনেও সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি হতে দেখা যায়নি সেই দুই ধরনের খেজুর।

বরং বাড়তি দামেই খেজুর বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। এ যেন বেঁধেও বাধা গেল না খেজুরের আকাশছোঁয়া দাম।
সম্প্রতি অতিসাধারণ বা নিম্নমানের খেজুরের দাম খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি ১৫০ থেকে ১৬৫ টাকা এবং বহুল ব্যবহৃত জাইদি খেজুরের দাম প্রতি কেজি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা নির্ধারণ করে দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

কিন্তু বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর কারওয়ান বাজারের পাইকারি, খুচরা ও ভ্যানে করে বিক্রি করা খেজুরের দোকান ঘুরেও এই দুই খেজুর সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি হতে দেখা যায়নি। বরং অতিসাধারণ বা নিম্নমানের খেজুরের খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি ১৭৫ থেকে ২০০ টাকা এবং জাইদি খেজুরের প্রতি কেজি ২২০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

সরকার নির্ধারিত দামে খেজুর বিক্রি করতে না পারার কারণ হিসেবে বিক্রেতারা আমদানিকারকের কাছ থেকে কম দামে কিনতে না পারা, খেজুরের আমদানি খরচ বেশি হওয়া, উচ্চ ভ্যাট ও সরবরাহ সংকটের কথা বলছেন। তাদের দাবি, সরকার নির্ধারিত দামে যদি তারা খেজুর বিক্রি করেন তাহলে তাদের লোকসানে খেজুর বিক্রি করতে হবে।

কারওয়ান বাজারে ভ্যানে করে খেজুর বিক্রি করা মামুন বলেন, সরকার বাংলা খেজুরের দাম ১৫০ টাকা কেজি নির্ধারণ করছে। কিন্তু আমাদের বাদমতলী থেকেই কিনতে হচ্ছে ১৭০ টাকা কেজি দরে। এরপর আবার পরিবহন খরচ। ভ্যানে করে বিক্রি করার জন্য দৈনিক ৩০০ টাকা দিতে হয়ে। সেসব খরচ বাদ দিলে আমরা কত করে বিক্রি করব? ২০০ টাকার কম বিক্রি করার কোনো সুযোগ নেই। এক কেজি খেজুর বিক্রি করলে মাত্র ১০ টাকা লাভ হয়।

একই কথা বলছেন বিক্রমপুর ফল বিতানের বিক্রেতা মো. মামুন। তিনি বলেন, বস্তায় করে আসা বাংলা খেজুর আমরা ২২০ টাকায় বিক্রি করি। আর জাইদি খেজুর ২৮০ টাকা। এর নিচে বিক্রি করা সম্ভব না। সরকার দাম নির্ধারণ করলে তো হবে না। আমাদের প্রতি কেজি জাইদি খেজুর কিনতে হচ্ছে ২৬০ টাকা কেজি দরে। আমরা যদি ১৫০ টাকায় কিনতে পারতাম তাহলে ১৮০ টাকায় বিক্রি করতে পারতাম। যেহেতু আমরা কিনতে পারছি না, তাই বিক্রিও করতে পারছি না।

তিনি আরও বলেন, সরকার বাদমতলীতে দাম না কমিয়ে শুধু মুখে মুখেই খেজুরের দাম নির্ধারণ করলে তো হবে না। এতে বরং আমাদের সঙ্গে ক্রেতাদের দ্বন্দ্ব তৈরি হচ্ছে। সরকারের উচিত আগে খেজুরের ভ্যাট-ট্যাক্স কমানো। তারপর মূল জায়গায় দাম কমানো। তাহলে আমরা কম দামে বিক্রি করতে পারি।