• ২১শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

হামাসের সঙ্গে চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে: নেতানিয়াহু

ডেস্ক
প্রকাশিত নভেম্বর ১৩, ২০২৩, ০৬:৪১ পূর্বাহ্ণ
হামাসের সঙ্গে চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে: নেতানিয়াহু
সংবাদটি শেয়ার করুন....

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় আটক জিম্মিদের মুক্তির জন্য হামাসের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য চুক্তি হতে পারে বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। রোববার আমেরিকান নেটওয়ার্ক এনবিসি নিউজকে এমন কথা বলেছেন তিনি।

নেতানিয়াহু এনবিসিকে বলেছেন, ‘আমি মনে করি এটি সম্পর্কে যত কম বলব, ততই আমি এটি বাস্তবায়িত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলব।’ খবর আনাদুলু এজেন্সির

বর্তমানে সব জিম্মি কোথায় রাখা হয়েছে তা তিনি জানেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা অনেক কিছু জানি, কিন্তু আমি এর বাইরে যাব না।’

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী যোগ করেছেন যে কোনও চুক্তি হবে চাপ, সামরিক চাপের ফল। তিনি বলেন, ‘এটি এমন বিষয় যা সম্পর্কে আগে বলা যায় না। যদি একটি চুক্তি হয়, ঠিক আছে। যখন এটি হবে তখন আমরা ঘোষণা করব।’

আরও পড়ুন: গাজায় নিহতদের প্রায় ৮ হাজার শিশু ও নারী, বন্ধ ২২ হাসপাতাল

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা এখন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। ছিটমহলটিতে যে গুটিকয়েক হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে তার মধ্যে ২২টি হাসপাতাল ও ৪৯টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ইসরায়েলের হামলা ও জ্বালানি সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে। গাজায় ইসরায়েলের হামলায় ১১ হাজার ১৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ৮ হাজারই শিশু ও নারী বলে জানিয়েছে সেখানকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

অবরুদ্ধ ছিটমহলের সরকারি মিডিয়া অফিস রোববার বলেছে, ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে গাজা উপত্যকার মোট ২২টি হাসপাতালের পরিষেবা বন্ধ হয়ে গেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘চিকিৎসা কর্মীদের জন্য হুমকিসহ হাসপাতালগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে টার্গেট করা ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে মোট ২২টি হাসপাতাল এবং ৪৯টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। এছাড়া ইসরায়েল এখন পর্যন্ত ৫৩টি অ্যাম্বুলেন্স ধ্বংস করেছে।’

গাজার মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, ইসরায়েলের হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১১ হাজার ১৮০ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৬০৯টি শিশু এবং ৩১০০ জন নারী। আহতের সংখ্যা ২৮ হাজার ২০০। আহতদের ৭০ শতাংশ শিশু ও নারী।

গাজা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০টি মসজিদ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং ১৫৩টি মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তিনটি গির্জা।

গাজা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইসরায়েলের হামলায় গাজার কৃষি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ১৮০ মিলিয়ন ডলার। গাজার যে অল্প পরিমাণ কৃষি এলাকা রয়েছে তার ২৫ শতাংশ ধ্বংস হয়ে গেছে।

ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ড। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলার মুখে গাজার সবচেয়ে বড় আল-শিফা হাসপাতালটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। এতে হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন রোগীদের মৃত্যুর আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে।